বুধবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

হুমায়ূন আহমেদ

এসেছিলে তুমি আঁধার মাড়িয়ে অপরূপ এই দেশে

বনবনানীর ছায়া তরু মাঠ নদ নদী ভালোবেসে

লেখালেখি করে জগত বানিয়ে তুলেছো সেখানে ঘর

আখরে আখরে খাতা-কলমের হলে এক জাদুকর

 

নাটক সিনেমা গল্প কবিতা উপন্যাস ও গান

যেখানেই খুঁজি সেখানে তোমার ভুরিভুরি অবদান

লাখো পাঠকের মনের গভীরে গোপনে বেঁধেছো বাসা

কেউ কি পেয়েছে কানায় কানায় এতসব ভালোবাসা?

 

ঝলমল করে বইয়ের পাতায় কত যে লেখার হাসি

অমর কীর্তি রয়েছে অমর জনতার পাশাপাশি

সব লেখাতেই সাহস যোগায় নির্মল হয় মন

বাঙালি বাঙালি এক হয়ে তাই গড়ে তোলে বন্ধন

 

সুবাস ছড়ালে মানুষের প্রাণে তুমি যে গোলাপ ফুল

যত প্রেরণার মধু ঢেলে দিয়ে ভরালে পাঠককুল

চুপি চুপি তুমি কোথায় হারালে আমরা হারাই দিশে

তুমিতো হয়েছো আমাদের মাঝে একাকার মিলেমিশে

 

আমাদের কাছে যেমন ছিলে গো তেমনই আছো তুমি

হারিয়ে তোমায় একা একা হয়ে বাঁচে কি জন্মভূমি

চিরজীবী তুমি সকলের প্রাণে তাই মোটে নেই খেদ

চিরকাল আছো সতেজ সবুজ হুমায়ূন আহমেদ

২৯ জানুয়ারি ২০১৩

দৈনিক মাথাভাঙ্গা অফিস, চুয়াডাঙ্গা।

 

শুক্রবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

বিড়াল মেকুর বিল্লি













তুই নাকিরে কালো বিড়াল
বিড়াল মানে মেকুর,
এই অপবাদ মাথায় নিয়ে
যায় না তোলা ঢেঁকুর

বিড়াল মেকুর যা-ই বলি না
কিংবা ছুঁচো বিল্লি,
রেলের টাকা তুই বেতমিজ
বেফাঁস করে গিল্লি

কালো বিড়াল তোর খিজালত
সয় নাতো আর দাদা,
নতুনভাবে রঙ করে তাই
বানিয়ে দিলাম শাদা
২৭ জানুয়ারি ২০১৩
দৈনিক মাথাভাঙ্গা অফিস, চুয়াডাঙ্গা

রবিবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০১৩

এক ঘাটে খায় জল

গোয়ালবাড়ির কটা শেখের পালোয়ান এক ছেলে

হায়না শেয়াল খতম করে হাতের কাছে পেলে

সিংহ হাতি পালায় ভয়ে দেখলে ছেলের ঘুষি

ভাত রুটি তার ভাল্লাগে না খায় সে যবের ভূষি

 

গাছের বাকল লতা পাতা হজম করে গিলে

আজব ব্যাপার দেখলে তোমার চমকে যাবে পিলে

তাবত মানুষ আঁতকে ওঠে অজানা কোন ডরে

তাকে দেখে সবাই কাঁদে খিল লাগিয়ে ঘরে

 

দাঁত কটমট বজ্র ফাটে তার কী ভীষণ রাগ

হঠা সেদিন বন থেকে সে আনলো ধরে বাঘ

গোয়াল ঘরে বাঘ বেঁধে দেয় সঙ্গে গরু-মোষ

তিন পশুতে দোস্তি বেজায় করে না ফাঁস ফোঁস

 

গরু-মোষের সঙ্গে বাঘও চিবিয়ে খায় ঘাস

নেই গর্জন হুক্কা হালুম মধুর বসবাস

কী পালোয়ান কেমন গতর দ্যাখো সাহস বল

তার ভয়ে মোষ গরু ও বাঘ এক ঘাটে খায় জল!

১০.৮.২০১২ খ্রি.

বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা

শনিবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০১৩

যদি না

কার সাথে ভাব করেছো বুঝে নিয়ো

সাত-পাঁচ না ভেবে দুই হাত বাড়িয়ো

 

ভালোবাসার স্বাদ নিতে হয় রাগ দেখিয়ে

মনের ব্যথা কাটাতে হয় কাছে গিয়ে

না হলে প্রাণের মানুষ আপন মনে

চিরদিন হয় না প্রিয়

 

যদি না মান অভিমান একটু হলো

যদি না রাগে দু চোখ রাঙলো বলো

কী করে আদর পাবে সোহাগ পাবে

পারো তা বুঝে নিয়ো

 

যদি না আদর করে রাগ থামালে

যদি না লক্ষ্মী বলে মান ভাঙালে

কী মজা ভালোবাসায় বুঝবে না তা

হবে না স্মরণীয়

২৯.৯.২০১২ খ্রি.

বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা

মন ছুটে যায়

মন ছুটে যায় হাওয়ায় হাওয়ায়

কোন যে সোনার গাঁয়

মায়াবতী সোনার মেয়ে

তোমায় পেতে চায়

 

কোথায় থাকো কোন বা দেশে

মরি তোমায় ভালোবেসে

কে যেন রোজ মনের ঘরে

উঁকি মেরে যায়

 

তোমার কাছে চাঁদের আলো

হার মানে তাই লাগে ভালো

কেমন করে কখন তুমি

জড়ালে মায়ায়

২৯.৯.২০১২ খ্রি.

বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা

বদর রাজাকার

ভাই কেড়েছে বোন কেড়েছে

খুশিভরা মন কেড়েছে

 কোন ফাঁকে যে তা নিয়েছে

যেটুক ছিলো মার,

কেড়েকুড়ে সব নিয়েছে

বদর রাজাকার

 

ভিটে মাটি বসত বাড়ি

ঘর সংসার চুলো হাড়ি

বাপের আদর দাদির সোহাগ

নেই তো কিছু আর;

কেড়েকুড়ে সব নিয়েছে

বদর রাজাকার

 

মাঠের জিনিস ঘাটের জিনিস

শহর বাজার হাটের জিনিস

করলো পগার পার;

বুনো শকুন হায়না ওরা

বদর রাজাকার

২৯.৯.২০১২ খ্রি.

বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা

পালিয়ে যাবে

স্বাধীনতার ডাক পড়েছে

কে দিয়েছে ডাক,

যুদ্ধে যাওয়ার ডাক পড়েছে

কোমর বেঁধে রাখ

 

ডাক দিয়েছে মুজিব নামের

টুঙ্গিপাড়ার ছেলে,

লড়াই হবে ঝাপিয়ে পড়

ঘর সংসার ফেলে

 

এমন কিসের গরব করো

হাড়িতে নেই চাল,

ছেলে মেয়ে মা বউ বোন

সব দেখি কঙ্কাল

 

বাঁচার মতো বাঁচতে হলে

পাক হানাদার তাড়া,

যুদ্ধ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে

শক্ত হয়ে দাঁড়া

 

হবেই হবে কাজ;

পালিয়ে যাবে পাক শোসনের

সকল ফাঁকিবাজ

১৭.৯.২০১২ খ্রি.

বনানীবাড়ি, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা